বিপন্ন পরিবেশ: প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট দূর্যোগ
কিছুদিন আগে ‘আমরা
এখন ভাসমান অবস্থায় আছি’
শীর্ষক
একটা প্রবন্ধ লেখায় হাত দিয়েছিলাম। কিন্তু
সমাপ্ত করতে পারিনি, চলমান
সাভার ট্রাজেডি ও মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজত ইসলামের সমাবেশ ঘিরে। ওদিকে মনস্থির ছিল। চোখ দুটো ওই ঘটনাগুলোর উপর যেন নিবদ্ধ
রেখেছিলাম। দেশের প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে মানবসৃষ্ট
মহা দূর্যোগে প্রাণ হত্যার বিধ্বংসী উৎসব। তার
মধ্যে মহান সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি বিশ্ব প্রাকৃতিক দূর্যোগ তো আছেই।
মানুষের সাথে পারা গেলেও মহান সৃষ্টিকর্তা ধরা ছোঁয়ার বাইরে। পৃথিবী সৃষ্টির বহুপূর্বে মহান
সৃষ্টিকর্তা জ্বীন জাতিকে ধ্বংসের পরে মানুষকে এ গ্রহে পাঠিয়েছেন। পৃথিবীতে তার জীবনযাত্রা কেমন হবে, সে বিষয়ে সম্যক জ্ঞান
তিনি মানুষকে দিয়েছেন। তাই
জীবন চলার পথে কী করলে কী হবে,
নিয়ম
না মানলে কী পরিণতি হতে পারে তা তিনি যুগে যুগে নবী-রাসুল দ্বারা এবং বিভিন্ন
কিতাব-গ্রন্থ দ্বারা আগাম জানিয়ে দিয়েছেন। প্রয়োজনে
ঐতিহাসিক দলিল তথা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন।
এর পরেও যদি মানুষ সেই জীবন বিধান প্রদানকৃত দিকনির্দেশনা
গ্রহণ না করে, সে
জন্য তার ওপর আযাব বা দূর্যোগ আপতিত হয় দোষ দিবে কার? পবিত্র কুরআনে অতীতে ঘটে
যাওয়া ঘটনাকে স্মরণ করে দিতে মহানপাক বলেছেন-‘তাদের কাছে পৌছেনি কি সেই লোকদের সংবাদ যারা পূর্বে গত হয়েছে? যেমন নূহ, আ’দ ও সামূদের কওম, ইবরাহীমের কওম এবং
মাদইয়ান ও বিধ্বস্ত জনপদের অধিবাসী।
কত জনপদ আমি ধ্বংস করেছি যার অধিবাসীরা ছিল জালিম, এসব জনপদ এখন ধ্বংসস্তূপে
পরিণত পরিণত হয়েছে? এবং কত
কূপ পরিত্যক্ত হয়েছে ও কত সূদৃঢ় প্রাসাদও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তবে কি তারা দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করেনি? তাহলে তারা এমন হৃদয়ের
অধিকারী হত যদ্বারা তারা বুঝতে পারত, অথবা তারা এমন কর্ণের অধিকারী হতো যদ্বারা তারা শুনতে পারত; বস্তুত: চক্ষু তো অন্ধ হয়
না, বরং
অন্ধ হয় বক্ষস্থিত হৃদয় (সূরা তাওবা-৭০, সূরা হজ্ব-৪৫,৪৬)।
গত ১২ এপ্রিল পঞ্চগড় জেলা তেঁতুলিয়া উপজেলার সদরে ভোর ৬ টা ১০
মিনিটে ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেল। জানমালের
ক্ষতি না হলেও বাড়ি-ঘর ও গাছপালার ওপর দিয়ে ক্ষতির হারটা লক্ষ্য করা গেছে। উপজেলা তথ্যসূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৬ লক্ষাধিক টাকার
ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তেঁতুলিয়া
সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী আনিছুর রহমানের আমবাগানের প্রচুর আম ঝরেছে এবং
কলাবাগানেরও বেশ ক্ষতির চিহ্ন লক্ষ্য করা গেছে।
ওইদিনই বিভিন্ন পত্রিকায় দেখতে পেলাম ‘ধেয়ে আসছে ‘মহাসেন’ নামক ঘূর্ণিঝড়। যার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ৬২ কি.মি। যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কি.মি
পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বড়ই
ভয়ের খবর, সতর্ক
বার্তা প্রথমে ৩ নম্বর ও পরে ৪ নং সংকেত। ৪ নং
সংকেত বাড়লে ভয়ের মাত্রাও বাড়ে। ফেসবুকে
একজনের স্ট্যাটাসে দেখলাম- ক্রান্তীয় সামুদ্রিক ঝড় ‘মহাসেন’ এখন আর সাইক্লোন ঝড়ে
রূপান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বেশ
দূর্বল হয়ে পড়েছে সে। কিন্তু
ভয় তো কমছে না।
আকাশের গম্ভীর মেঘ দেখলেই চোখে-মুখে ভেসে উঠে তীব্র ভয়। অতীতের সেই ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের
তান্ডবতায় আমাদের নিয়ে ফিরে। জাগিয়ে
তুলে নতুন করে মনের ভিতর ভয়ের তীব্রতা। গত ১৮ সেপ্টেম্বর/১১
ভারতের সিকিমে উৎপত্তি হওয়া ৬ মাত্রার ভূ-কম্পটি তেঁতুলিয়াকে তীব্র ঝাকুনি সৃষ্টি
করেছিল। সেটিকে নিজেও ভুলতে পারিনা।
সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে হোটেলে নাস্তার সময় টের পেয়েছিলাম
মাটি কাঁপছে, হোটেলের
পূর্ব দেওয়াল যেন পশ্চিম দিকে লেগে যাচ্ছে। প্রম্পমান
ভাবে দুলছে হোটেলটা। তার
সাথে হোটেলে যারা ছিল তারাও। ভয়ে
আচ্ছন্নকারীদের আযানও শুনতে পাচ্ছিলাম। হোটেল
থেকে দৌড়ে যখন পাকা রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানুষজনের ছুটোছুটি লক্ষ্য করছিলাম, ঠিক তখনি বিকট একটা শব্দ
হলো।
মনে হলো রাস্তা ভেদ করে তলিয়ে যাচ্ছি। এই যে এক ভয়াবহ সময়, আতংকের সময়। খোদা তা’আলাকে চিৎকার করে ডাকার সময় সেটাই সেই ভূকম্পন থেকে টের পেয়ে
ছিলাম। যদিও সেই ভূ-কম্পনে তেমন ক্ষতি হয়নি, তবে মনের ভিতর ভয়াবহ
ভয়ের ঝান্ডা তৈরি করে গেছে। এখন
মেঘের গম্ভীর ভাব দেখলেই মনে পড়ে যায় সেদিনের সেই ভয়াচ্ছন্ন হওয়ার সময়টা। তাহলে যারা এই ভূ-কম্পন ও ঝড়ের
তান্ডবতায় শিকার হোন তাদের অবস্থাটা কেমন হতে পারে!!
পৃথিবীতে মানুষ অদ্ভূতভাবে বেঁচে থাকে। বেঁচে থাকে নানা বৈচিত্রতায়। জীবনে বয়ে যায় কত দূর্ঘটনা-ঝড়
ঝাঞ্জায়। তার পরেও এসবের কাছে হার মানতে চায় না
মানুষ। বেঁচে থাকার জন্য মৃত্যুর সাথে লড়াই
করে। দরিয়া পাড়ের মানুষের জীবন সংগ্রাম
দেখে তা আঁচ করা যায়। যে সাগর
তীরে তাদের জনবসতি, সেই
সাগরই একেক সময় রেগে ফুঁসে ছোবল দিতে আসে।
কেঁড়ে নেয় জীবন ও ঘর বাড়ি। কখনো জলোচ্ছাসে ঢেকে ফেলে গোগ্রাসে গিলে। অথচ এখানেই আবার ক’দিন পর নতুন করে বসবাস
করার জন্য গৃহ নির্মাণ করে। আহার
সংগ্রহ করতে সাগরে মাছ ধরতে যায়,
চরের
বুকে সারাদিন তাদের অভুক্ত সন্তানরা ধূলোবালিতে খেলে দিন পারি দেয়। ঘূণি ঝড়! জলোচ্ছাস আর ভূমিকম্প যাদের
আমরা বিভিন্ন সাংকেতিক নাম দেই-টর্ণেডো, সাইক্লোন,
সুনামি, সিডর, নার্গিস ও মহাসেনসহ কত নাম।
এসব ঝড়ের তান্ডবের কত সতর্ক সংকেত ১..২..৩..৪..৭..১০; সংকেত যত বাড়ে বিপদও যেন
ততো বাড়ে। তারপরেও এই বিপদের ভিতর মানুষ তার লড়াই
চালিয়ে জীবন রক্ষার শেষ প্রচেষ্টা চালায়। প্রতিকূল
জীবনে কত দূর্বার সংগ্রাম। পুরো
জীবনটাই যেন একটা মস্ত লড়াই ক্ষেত্র। ভূমিষ্ঠ
হওয়ার পর থেকে শুরু হয় বেঁচে থাকার আজন্ম লড়াই। প্রতিটি সময়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়
যুদ্ধাস্ত্র সৈনিক হয়ে। এই
যুদ্ধের ময়দানেই কত বিচিত্র দূর্যোগ!
এই নিবন্ধের শিরোনাম হিসেবে আমরা দু’ধরণের দূর্যোগের শিকার হই। ১. প্রাকৃতিক দূর্যোগ ২. মানবসৃষ্ট
দূর্যোগ। এইসব দূর্যোগে কেউ জীবন হারাই, কেউ স্বজন হারাই আবার কেউ
সম্পদ হারাই আর কেউ হারাই জীবনের সমস্ত সুখ-আনন্দ। দূর্যোগ কিছু না কিছু কেঁড়ে নিবেই। এই দূর্যোগ ঘটার কারণটা কি? কারণ ছাড়া কিছু ঘটে না। এই মহাবিশ্বে প্রতিনিয়ত ঘটে যাচ্ছে
বিচিত্র সব ঘটনা। সেই বিচিত্র ঘটনার মধ্যে ‘প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট
দূর্যোগ’ অন্যতম।
প্রাকৃতিক দূর্যোগ স্বয়ং মহান সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি থেকে আসে। এই বিশ্ব ব্রক্ষান্ড যিনি পরিচালনা
করছেন, তিনি
তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে সেটা করছেন। এই
আসমানের নিচে ও জমিনের উপরে ভৌগলিকে প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কে
গিয়োগ্রাফি সায়েন্স বলে ‘নিম্নচাপ
থেকেই সৃষ্টি হয় ঘূর্ণিঝড়। ঘূর্ণিবতার
কেন্দ্রে নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে চাপের সমতা রক্ষার জন্য চতুর্দিকে উচ্চচাপের শীতল
বায়ু কেন্দ্রের দিকে প্রবল গতিতে ধাবিত হয় এবং কেন্দ্রে গিয়ে তা উর্দ্ধগামী হয়, এই কেন্দ্রমুখী উর্দ্ধগামী
বায়ুই ঘূর্ণিঝড় রুপে পরিণত হয়। এই
ঘূণিঝড় যেদিকে বয়ে যায়,
সেদিকেই
বিশাল ক্ষতিগ্রস্ত করে যায়।
দুমরে-মুচরে কাগজের মতো ভাঁজ করে দিয়ে যায়। রাক্ষসীর মতো গোগ্রাসে গিলে ফেলে বহমান
ঝড়টি যেদিক দিয়ে বয়ে চলে। এই
প্রাকৃতিক ঝড় হওয়ার কারণ কি?
এখানেও
কি মানুষের কোন হাত আছে? প্রশ্ন
উথাপিত হলেও এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘটার পিছনেও মানুষ দায়ি। কেননা আজ বিশ্ব প্রকৃতিতে জলবায়ুর ঘনঘন
পরিবর্তন হওয়ার পিছনে উজার করে বনভূমির গাছপালা কেটে ফেলা, যে গাছপালা প্রাকৃতিক
ভারসাম্য রক্ষা করে। দেশে
যেখানে ২৫ ভাগ বনভূমির থাকার কথা। সেখানে
কয়ভাগ রয়েছে সেটা দেখতে হবে। যার
কারণে কার্বন ডাই-অক্সাইড বহুগুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তাছাড়া বায়ুর নিম্নচাপ ও প্রতিনিয়ত বায়ু দূষণ,শব্দ দূষণ, অপর্যাপ্ত কলখানার
ব্যবস্থা, ত্রুটিপূর্ন
নির্মাণ-স্থাপনার ফলে ভূমিধস ও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির প্রবনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে ‘বায়ুমন্ডলের ক্ষতিকর
কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের উপস্থিতি প্রথমবারের মতো বিপজ্জনক প্রতীকি মাত্রা ‘৪০০ পিপিএম (পার্টস অব
মিলিয়ন) ছাড়িয়ে গেছেন। বিজ্ঞানীরা
বলেন, মানুষের
অনিয়ন্ত্রিত কার্যকলাপ ও জীবাশ্ম জ্বালানির ঢালাও ব্যবহারে সৃষ্ট জলবায়ুর ক্ষতি
ঠেকাতে বিশ্বনেতাদের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
গ্রানথাম রিসার্চ ইনস্টিউট অন ক্লাইমেট চেঞ্জ ও এনভায়রনমেন্ট
অ্যাট লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস্ অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্সের নীতিমালা ও যোগাযোগ
বিষয়ক পরিচালক বব ওয়ার্ড বলেন,
লাখ
লাখ বছরেরও এ পৃথিবীতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা এমন পর্যায়ে আর পৌছায়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন, আমরা প্রাগৈতিকহাসিক যুগের
জলবায়ুতে ফিরে যাচ্ছি। এতে
মানব সমাজ ব্যাপক ও সম্ভাব্য বিপর্যয় সৃষ্টিকারী ঝুঁকিতে পড়বে। জরুরী ভিত্তিতে ক্ষতিকর গ্যাসের নির্গমন
কমাতে পারলে আমরা কার্বন ডাই- অক্সাইডের মাত্রা হ্রাসের সক্ষম হব।’
(সূত্র:প্র/আ.১২মে/১৩); বব ওয়ার্ডের কথার
ভিত্তিতে বলা যায়, বিশ্ব
জলবায়ু ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে তা ভারসাম্যহীনতার দরুণ প্রবল হুমকির মুখে পড়েছে
পরিবেশ-প্রকৃতি। যার কারণে প্রাকৃতিক দূর্যোগ এর ভয়াল
আক্রমণের শিকার প্রাণী ও পৃথিবী। বায়ুর
নিম্নচাপ, পরিবেশ
দূষণ, বৃক্ষনিধনে
পর্যাপ্ত বনভূমি না থাকার কারণে ঘূর্ণিঝড় প্রবলভাবে আঘাত হানছে।
যার কারণে সিডর,
সুনামি, আইলা, নার্গিস, ক্যাটরিনা, স্যান্ডি এবং চলমান মহাসেন
এর প্রাকৃতিক দূর্যোগের উৎপত্তি হতো না। এখন
বলা যেতে পারে, এই যে
মানুষের অনিয়ন্ত্রিত কার্যকলাপ ও জীবাশ্ম জ্বালাও ভাবে ব্যবহারের ফলে পরিবেশ
একদিকে দূষিত হয়ে উঠছে। কলকারখানা, স্থাপনা নির্মাণে নানা
ত্রুটি থাকলেও সেটা আমলে নেওয়া হচ্ছে না। বিশাল
ডোবা ভরাট করে সেখানে নর্মালভাবে নির্মাণ হচ্ছে কয়েক তালা বিশিষ্ট ইমারত-বিল্ডিং। যার দৃষ্টান্ত উদাহরণ সাভারের ৯ তলা
রানা প্লাজার বিপর্যয় ধস।
এই বিপর্যয়ে প্রাণ বিসর্জন দেওয়া নিহতের সংখ্যা ১১১৫ জন
শ্রমিক। জীবিত উদ্ধার ২৪৩৮ জন, হাসপাতালে মৃত্যু ১২ জন। বলা যেতে পারে, মানুষই দ্বারাই আজকের
প্রকৃতিকে ক্ষেপে তোলা হচ্ছে। ভেজাল
স্থাপনার ফলে সেগুলো ধসে পড়ছে এবং ধসে পড়ার পূর্বে সেগুলোতে ফাটলের চিহ্ন দেখা
দিচ্ছে। এর পিছনে রয়েছে অনিয়ন্ত্রিত কার্যকলাপ। স্বার্থনেশা রাজনীতি। মুনাফালোভী ঘাতক স্থাপনা ও কারখানার
মালিকপক্ষ। সৃষ্টিকর্তার একক নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে
গোটা বিশ্ব ব্রক্ষ্মান্ড।
কোন হেরফের নেই,
ত্রুটি
নেই। কিন্তু মানুষ স্রষ্টার দিকনির্দেশনার
নিয়ম ভঙ্গ করে গড়ে তুলছে অপরজনের জন্য মৃত্যুফাঁদ। অপরদিকে অনৈতিক পাপাচার, অসামাজিক কার্যকলাপের
কারণেও মহান সৃষ্টিকর্তাও এখন মানুষের প্রতি ক্ষিপ্ত। যার প্রমাণ পবিত্র কুরআন।
মহান সত্তা তার পবিত্র কালাম কুরআনে হযরত লূত (আ.) এর কওমের
অনাচার-দূরাচার সম্পর্কে ঘটনা উল্লেখ করে বলেছেন-‘তোমরা এমন অশ্লীল কাজ করছো, যা তোমাদের পূর্বে পৃথিবীর কেউ কখনো করেনি। তোমরা কি পুংমৈথুনে লিপ্ত আছ, রাহাজানি করছো এবং নিজেদের
মজলিসে প্রকাশ্যে গর্হিত কর্ম করছো?
জবাবে
তাঁর সম্প্রদায় কেবল এ কথা বললো যে, আমাদের ওপরে আল্লাহর গজব নিয়ে এসো, যদি তিনি সত্যবাদী হও।
তিনি তখন বললেন,
হে
আমার পালনকর্তা! এই দুষ্কৃতিকারী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে তুমি আমাকে সাহায্য কর’ (সূরা আনকাবুত-২৮-৩০); লূত (আঃ) এর দোয়া মহান
আল্লাহ তাআলা কবুল করেছিলেন। যার
ফলে সেই লূত (আ.) এর সেই কওমসহ ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। ইতিহাসের অত্যাচারী কওম ফেরাউন,কারুণ, হামান,নমরুদসহ বিভিন্ন গজব দিয়ে
সমূলে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন।
যার বর্ণনায় ‘আমি
এমন কোন জনপদ ধ্বংস করি নাই,
যার
জন্য সতর্ক ছিল না; ইহা
উপদেশ স্বরুপ, আর আমি
অন্যায়চারী নই’ (সূরা
শু’আরা-২০৮-২০৯)।
ইতিহাস কথা বলে। প্রাকৃতিক
দূর্যোগের ভয়াল থাবায় অতীতে প্রাণহানি ঘটেছে অগণিত মানুষের। জীবনের এক চিলতে সুখ-শান্তি কেড়ে
নিয়েছে এই দূর্যোগ ঘূর্ণিঝড়,
ভূমিকম্প, ভবনধস আর জলোচ্ছাস নামক
জলদানব । ২০০৪ সালে ২৫ ডিসেম্বর ভারত, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়া
তিনটি দেশে আঘাত হানে ভয়ংকর সুনামি।
ভূমিকম্প বা জোয়ারের প্রভাব ছাড়াও অগ্ল্যুৎপাত, ভূমিধস বা মহাজাগতিক বস্তু
পতনের সুনামি হতে পারে। প্রকৃতির
খামখেয়ালির ঝাপট-দাপট বিষাক্ত ছোবলের আরেক নাম সুনামি। ২৬ ডিসেম্বর ভারতীয় সময় সকাল ৬ টা ২৮ মিনিটে
সুমাত্রা দ্বীপে ২৫০ কি.মি. দক্ষিণ-পূর্বে সমুদ্রতলের ৪০ কি.মি গভীরে প্রবল
ভূকম্পন জনিত আলোড়নের (রিখটার স্কেল তীব্রতা ৮.৯) দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি
ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, মালদ্বীপ ও ভারতে যে
ভয়াবহ জলকম্পন সৃষ্টি হয়।
এটাকেই সুনামি বলে নামকরণ হয়। ২০০৪ সালের এই ভয়াবহ সুনামির তান্ডবে
প্রায় ২ লাখের বেশি মানুষ,
অজস্র
পশুপাখি, জলজ
প্রাণ, বহু
মূল্যের বনজ-খনিজ সম্পদ ও ফসলসহ কোটি কোটি ধনসম্পদ এবং ঐতিহাসিক সভ্যতা সুনামির
দাতাল আক্রমনে প্রাণনাশ, বিধ্বংসী
ও বিলুপ্ত হয়ে যায়। ২০০৭ সালে
প্রলংকরী সিডর আঘাত হানে বাংলাদেশ ও ভারতে।
এর ভয়াল থাবায় জীবন হারায় প্রায় ৩ হাজার ৫০০-এর অধিক মানুষ। তার সাথে প্রাণহানি ঘটে কয়েক হাজার
গবাদি পশু, বিনস্ত
হয় ব্যাপক ঘরবাড়ি, মসজিদ-মাদ্রাসা
ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ২০০৯ সালে
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ ও ভারতের দক্ষিণ-পূর্বাংশে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় আইলা। এটি ছিল দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড়। যার বাতাসের গতিবেগ ছিল ৮০-১০০ কিলোমিটার। বাংলাদেশের পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালীর হাতিয়া, নিঝুম দ্বীপ, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলায়
আইলার থাবায় জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
আইলার প্রভাবে প্রায় দুই লাখ একর কৃষিজমি লোনা পানিতে তলিয়ে
যায়। এই ভয়াবহ জলোচ্ছাস ও লোনা পানির
প্রভাবে কয়েক হাজার গবাদি পশু মারা যায়। পানিতে
তলিয়ে যাওয়ায় বাস্তুচ্যুত হয় কমপক্ষে তিন লাখ মানুষ। খুলনা ও সাতক্ষীরায় প্রাণ হারান ১৯৩ জন। ২০০৮ সালে মিয়ানমারে ইরাবতী বদ্বীপ
এলাকায় ১২০ মাইল বেগের বাতাস প্রলংকরী নার্গিস ঝড়ে প্রাণহানি ঘটে কমপক্ষে ২২ হাজার
মানুষের। ১২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছাসে গৃহহীন হয়ে
পড়ে কয়েক লাখ মানুষ।
তীব্র পানির সংকটে পড়েন ইয়াঙ্গুনের ৫০ লাখ অধিবাসী। পাশাপাশি খাদ্য দ্রব্য, জ্বালানি ও নির্মাণ
সামগ্রীর দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়ায় সেই সঙ্গে দূর্ভোগ বাড়ে ঘূর্ণিঝড়ে
দূর্গতদের। এর আগে ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল ১৫৫ মাইল
বেগে বাংলাদেশে আঘাত হানা এক প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে এক লাখ ৪৩ হাজার লোক নিহত হয়েছিলেন। এছাড়াও ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও
হাইতিতে আঘাত হানে হ্যারিকেন ক্যাটরিনা। যার
আক্রমনে নিউ ওয়ালিয়ান্স,
লুজিয়ানায়
৮০ ভাগ এলাকা প্লাবিত হয়।
এ ভয়াবহ হ্যারিকেন কেড়ে নেয় এক হাজার ৮৩৩ জনের প্রাণ। ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের পরিমাণ ছিল
আনুমানিক ৮১ বিলিয়ন ডলার। ২০১২ সালে
মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের আঘাত হানে ইতিহাসের অন্যতম ভয়ঙ্কর হ্যারিকেন স্যান্ডির। প্রলয়ঙ্করী এ স্যান্ডির ভয়াল থাবায়
লন্ডভন্ড হয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের ৯টি অঙ্গরাজ্য।
পূর্ণিমার প্রভাবে ১৪ ফুট উঁচু জলোচ্ছাসে তলিয়ে যায়
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টিক সিটি,
নিউজার্সি
ও নিউর্কের কয়েকটি উপকূলীয় এলাকা এবং ভয়াবহ এই স্যান্ডির ঘূর্ণিঝড়টি ১২৯ কি.মি
বেগে যুক্তরাষ্ট্রের ৯টি অঙ্গরাজ্যে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চলে। শতাধিক প্রাণ ঝরলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বহু
(সূত্র: বা/প্র.১৫ মে/১৩)।
প্রাকৃতিক দূর্যোগের চেয়েও যে ভয়াবহ আতঙ্ক এদেশের আরেক
মানবসৃষ্ট ভয়ঙ্কর রাজনীতি। অশুভ
রাজনীতির দূষণে সৃষ্ট রাজনৈতিক দূর্যোগ। যার
সহিংস ছোবলে আতঙ্কিত জনপদ ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ব্যবস্থা। চলমান এই সৃষ্ট সহিংসতায় বিধ্বস্ত হতে
চলেছে যত প্রাণসম্পদ। যার
কারণে প্রাকৃতিক দূর্যোগের চেয়েও ভয়ংকর রাজনৈতিক ঘূর্ণিঝড়। চলমান রাজনীতির দিকে তাকালে এই চিত্রই
চোখে পড়ে। এটাই মানবসৃষ্ট বিপর্যস্ত দূর্যোগ।
ক্ষমতার লোভে বিবেককে তোলা হচ্ছে চরম হিংস দানবের মতো। ক্ষমতাসীন সরকারের একপক্ষতা, ব্যাপক দূর্নীতি, অর্থ লুট, চাকরি বাণিজ্য, রাস্তাঘাট, আবাসিক প্লট অবকাঠামোতে
টেন্ডারবাজি, নদী-হাওর
ইজারা, দমননীতি
এবং ক্ষমতার অপব্যবহারে জনগণের নাজেহাল অবস্থা। অপরদিকে বিরোধীদল রাজপথে অবস্থান নিয়ে
আন্দোলনের নামে মিছিল-মিটিং,
বিক্ষোভ-সমাবেশ, হরতাল-অবরোধ, জ্বালাও-পোড়াও, মার-দাঙ্গা করে জনগণের
দূর্ভোগ ভোগান্তির ক্ষেত্র তৈরি করে।
জ্বালাও-পোড়াও করে দেশের অর্থনৈতিককে ধ্বংস সাধনে লিপ্ত হোন। ক্ষমতাসীন সরকার লুন্ঠন, লুটপাট ও দূর্নীতি করে
সম্পদ গ্রাস করে। আর বিরোধীদল আন্দোলনের মাধ্যমে
অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করেন। প্রত্যক্ষ
ও পরোক্ষভাবে আজকের দুনেত্রীর অপরাজনীতির প্রভাবটা আজকের প্রাকৃতিক দূর্যোগ মহাসেন
চেয়েও অতিব ভয়ংকর। যার
পরিণাম হিসেবে আমাদের দেখতে হয়েছে গত মার্চ মাস পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতায়
রাজপথে প্রাণ ঝরেছে শতাধিক। এপ্রিল
থেকে মে পর্যন্ত সাভার ট্রাজেডি ১১১৫ জন শ্রমিক ভবন ধসে নিহত বাদ দিলেও মতিঝিলের ৫
ও ৬ মে হেফাযত ইসলামের সৃষ্ট সমাবেশ ঘিরে ২০/২৩ জন হত্যার শিকার হয়েছে।
এছাড়াও মানবসৃষ্ট দূর্যোগের মধ্যে রয়েছে গুম-হত্যা-অপহরণ, জানমালের অনিরাপত্তা, প্রশাসনিক ক্ষেত্রে মামলার
নাটক সৃষ্টি, গ্রেফতার
আতংক এবং মামলা হলেই রিমান্ডে নিয়ে অযাচিত নির্যাতন চালানোর মতো অসহনীয় দূর্যোগ
আর কী হতে পারে! অপরদিকে দেশে ঘটে যাওয়া কিছু ভয়াবহ মানবসৃষ্ট দূর্যোগের শিকারে
যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা
দৃষ্টিগোচর হলে শিউরে উঠতে হয়। সদ্য
সাভার ট্রাজেডি ঘিরে জাতীয় আইন প্রশাসন বোধয় একটু বোধশক্তিতে নাড়া দিয়েছে।
গত ৮ মে সাত পৃষ্ঠার একটা প্রতিবেদন আইন মন্ত্রণালয়ে দাখিল
করা করেছেন তারা। মানবসৃষ্ট দূর্যোগ রোধে দুর্যোগ
ব্যবস্থাপনা আইন-২০১২ সংশোধনের ১৩ সুপারিশ প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন- ‘২০০৩ সালে ডাকাতিয়া নদীতে
লঞ্চডুবিতে আট শতাধিক মানুষের মৃত্যুসহ এ ধরনের নৌ-দূর্যোগে প্রাণহানি, স্পেকট্রাম ও ফিনিক্স
গার্মেন্ট ভবনধস, ঢাকার
নিমতলীতে আবাসিক ভবনধস ও তাজরীন ফ্যাশন গার্মেন্টে অগ্নিকান্ড এবং সম্প্রতি
সাভারের রানা প্লাজাধসে মানুষের প্রাণহানি ও পঙ্গুত্ববরণ মানবসৃষ্ট দূর্যোগ। এগুলো নিছক দূর্ঘটনা নয়। মানুষের লোভ, অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার
মর্মান্তিক ও অগ্রহণযোগ্য পরিণতি।
আইন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড.শাহ আলম বলেন, ‘প্রায়ই মানবসৃষ্ট
দূর্যোগে প্রাণহানির ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। অথচ এ জন্য দায়ী ব্যক্তিদের
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া যাচ্ছে না। তাই
কমিশন থেকে সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’
এই প্রতিবেদনে আইন সংশোধনের বিষয়টি বেশ উল্লেখযোগ্য-‘দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনের
ধারা ২(৭)-এ বিদ্যমান ঝুঁকির সংজ্ঞা সংশোধনে সুপারিশে বলা হয়েছে, ঝুঁকির সংজ্ঞা বিস্তৃত ও
সুনির্দিষ্ট করা প্রয়োজন। এতে
অপর্যাপ্ত বনায়ন বা বন ধ্বংসের কারণে প্রাকৃতিক দূর্যোগের বৃদ্ধি; নদী বা জলাশয় ভরাটের
ফলাফল; কোন
স্থাপনা নির্মাণে ত্রুটি বা যে উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি; স্থাপনা বা ভবন ব্যবহারের
পর্যাপ্ত সুবিধাদি ও নিরাপত্তার ব্যবস্থার অভাবে ক্ষতিকর অবস্থা সৃষ্টি হওয়ার
বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত।’(দৈনিক সমকাল: ১২ মে/১৩)
বড় আশার কথা,
এটা
আইন মন্ত্রণালয়ে পাস হোক। তবে
যেন সেটা তদন্ত হবে হবে বলে যদি আবার ফাইলের পর ফাইল জমা পড়ে হারিয়ে যায়, সেটা হবে অত্যন্ত দুঃখের
ব্যাপার।
সরকার ‘মহাসেন’ প্রাকৃতিক দূর্যোগ
মোকাবেলা করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। কয়েক
হাজার নৌসেনা ও ত্রাণাদি মজুদ এবং উপকূল থেকে যাদের ঝড়-জলোচ্ছাসে আক্রমন হওয়ার
ঝুকি বেশি, তাদের
জন্য বিভাগীয় চট্রগ্রামের ১২টি উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশনে সরকারীভাবে মোট ৪৭৯টি
আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছেন। যেখানে
ঠাই নিতে দেখা গেছে তিনের অধিক লক্ষাধিক মানুষের।
নিঃসন্দেহে এটা প্রশংসনীয় প্রদক্ষেপ, সাধুবাদ জানাই। বিরোধীদলও হরতাল প্রত্যাহার করেছেন। এটাও মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। ভালো লেগেছে আমাদের। পত্রিকায় দেখলাম দেশের বেশ কয়েকটি
উপকূলের জায়গায় মহাসেন তারপরেও ভয়াবহ থাবা দিয়ে বাড়িঘর বিপর্যস্ত করে দিয়ে
গেছে। এটাকে পূণর্বাসন ও ত্রানাদি তাদের কাছে
পৌছাতে হবে।
জনসাধারণকে সচেতন করতে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি বেশি বেশি বনাঞ্চল তৈরিতে
গাছপালা রোপনে উৎসাহিত করতে হবে। বায়ুদূষণ, শব্দ দূষণ ও ত্রুটিপূর্ণ
স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করতে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। হরতাল-অবরোধ, জ্বালাও-পোড়াও নোংরা
রাজনীতি পরিহার করতে হবে। গুম-হত্যাসহ
সকল নাশকতা কর্মকান্ড যাতে না ঘটে সেদিকে সরকার প্রধানের দৃষ্টি রাখতে হবে।
মনে রাখা উচিত সহিংস রাজনীতি, হিংসা-বিদ্বেষ,
স্বার্থ-লোভের
রাজনীতি কখনো কারোর জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না একমাত্র ধ্বংস-দূর্যোগ ছাড়া। এই প্রজন্মের জাগতিক তরুণ হিসেবে বলবো, মাননীয় দুই নেত্রীকেই
আমরা শ্রদ্ধা ও সম্মান করি। হার্ডলাইন
আর হটলাইনে যেখানেই অবস্থান নিন না কেন; জনগণের ওপর যেন আপনাদের সৃষ্ট আর কোন অভিশপ্ত দূর্যোগ আপতিত না
হয়।
তা না হলে গণতন্ত্র যে বিপর্যস্ত হতে চলেছে, আপনাদের রাজনৈতিক অবস্থাও
বিপন্ন হতে সময় লাগবে না। তাই এ
থেকে পরিত্রাণ চাই,ভঙ্গুর
রাজনীতির সুস্থ্য চিকিৎসা চাই। তা
নাহলে বব ওয়ার্ডের মতোই আশঙ্কা করতে হবে, বিশ্ব জলবায়ুতে কার্বন ডাই-অক্সাইড অধিক পরিমাণে বেড়ে যাওয়ায়
যদি সেই প্রাগৈতিহাসিক যুগে ফিরে যেতে হয়, তাহলে আজকের এই চরম উত্তপ্ত এবং ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক অস্থিরতার
দরুণ আমাদের মহা দূর্যোগের শিকার হয়ে কোন যুগে ঠাই হবে তা সময়ই বলে দিবে।
১৯ মে/২০১৩ রবিবার
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন