রবিবার, ২ জুন, ২০১৩

রাজনীতির দূরারোগ্য ব্যাধির আক্রান্তে ঝরে পড়ছে শতশত তাজা প্রাণ; এই সংক্রামক দূরারোগ্য ব্যাধি থেকে বাঁচার পন্থা কী?

রাজনীতির শরীরে আজ জায়গায় জায়গায় পচন ধরেছেআক্রমণ করেছে মহামারি দূরারোগ্য ব্যাধি কলেরা, টাইফয়েড, প্যারালাইসিস, ক্যান্সার, গুটি বসন্ত ও জলত্যাঙ্ক নামক ভয়ঙ্কর রোগগুলোরাজনীতির মস্তিস্কে এই মহামারি রোগ এমনভাবে অ্যাটাক্ট করেছে যার কারণে মুসলিম উম্মাহর আনন্দময় ঈদ ঈদুল আযহার কুরবানীর পশুর মতো জবাই উৎসব শুরু হয়েছে আজ দেশে! যার ফলে যেখানে সেখানে দেখতে হচ্ছে গুলিবিদ্ধ লাশ, জবাইকৃত মাথাহীন মুন্ডু, রক্তাক্ত নিথর দেহজলাত্যাঙ্ক বিষ প্রবেশ করেছে রাজনৈতিকদের মস্তিস্কেযার কারণে পাগলা কুকুর স্বভাব ধারণ করে হত্যা উৎসবে মেতে উঠেছেন তারাতা নাহলে রাজনৈতিক সহিংসতায় এত লাশের স্তুপ দেখতে হবে কেন?

মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে যে হত্যানাশকতার রূপ দেখতে হলো সেটা কারোরই প্রত্যাশা থাকার কথা নয়।  গত ৫ মে পল্টনে বলা যায় ভয়াবহ সুনামিই ঘটে গেলএই সুনামির তান্ডবে দেশে যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার চিত্র দেখে মনে হচ্ছে দেশ ভয়াবহ দূর্যোগের দিকে হাটছেঅর্থনৈতিক এই বিপর্যয়ের সাথে রাষ্ট্রের রাজনৈতিকদেরও যে মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে, যার কারণে পবিত্র ধর্ম নিয়ে চলছে নানা ফন্দিফিকির রাজনীতিরতা নাহলে পবিত্র কুরআন পুড়ানো হবে কেনপল্টনে বায়তুল মোকারম মসজিদ মার্কেট ও হাউস বিল্ডিং (বিএইচএফবি) এর অফিস ১০তলা অফিসের ৪ তলা পর্যন্ত আগুন জ্বলে উঠবে কেন? কেন পল্টনের খোলা বাজারের বই দোকানগুলোতে আগুন ধরিয়ে দিতে হবে?

গত ৬ এপ্রিল এই শাপলা চত্বরেই প্রথম বারের মতো হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ দেখেছিলামসন্ধ্যার পূর্বেই তারা সমাবেশ শেষ করে নিজ নিজ ঘরে ফিরে গিয়েছিলেন দেখে ভাল লেগেছিলকিন্তু ৫ মে দ্বিতীয়বার সমাবেশে দুপুরের পর হঠাৎ করেই এমন কী হয়ে দাঁড়ালো যে, দাঙ্গা-হাঙ্গামা শুরু হয়ে গেলরাস্তায় আগুন জ্বলানো হলোগাড়ি পুড়ানো হলো এর কারণ কী? এর নেপথ্যে পিছনের দিকে তাকালে বোধয় তৃতীয় কোন শত্রুপক্ষ এই দাঙ্গা-হাঙ্গামার সূত্রপাত ঘটিয়েছিলেন! সরকারও বেশ ধৈর্য্যশক্তির পরিচয় দিয়েছিলেন, বলেছিলেন হেফাজতে ইসলামের ভিতর কিছু জামায়াতের ইসলামের চক্র প্রবেশ করায় এই হট্টগোলের সৃষ্টিপল্টনের দাবানলের সৃষ্টিযা সন্ধ্যার দিকে চ্যানেল টোয়েন্টি ফোর-এ লাইভ প্রচারে দেখেছিলাম, পল্টনে বায়তুল মোকাররম মার্কেট, হাউজ বিল্ডিং ও সিপিবি অফিসে জ্বলছিল সন্ধ্যার আধাঁরে বিভীষিকাময় আগুনের লেলিহান শিখাতবে সন্ধ্যার পূর্বে সংবাদ সম্মেলনে মাননীয় এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ আক্রোশ ভাষায় বলছিলেন-হেফাজতকে আর ছাড় নয়, হেফাজতরা যদি সমাবেশ শেষে সন্ধ্যার মধ্যে ঢাকা ত্যাগ না করে, তাহলে জনসাধারনের জানমালের রক্ষার্থে সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে সরকার

এদিকে হেফাজত ইসলামের প্রাণপুরুষ শাহ্ আল্লাম শফী সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকা আসলেও ফের ফিরে যান লালবাগেএর কারণ অবশ্য জানা যায়নি।  কেন চলে গেলেন? প্রশ্ন জেগেছে, কিন্তু উত্তর মেলেনিমাননীয় এলজিআরডি মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদকের সন্ধ্যার পূর্বে ওই আক্রমণাত্মক ভাষণে একটু আশংকা জেগেছিলো মধ্যরাতে মহামারি কোন ঘটনা ঘটে কীনা? আগুনের লেলিহান শিখায় চোখ রাখতে রাখতে বাসায় ফিরি রাতে এগারটায়বাসায় টিভি নেই; তাই পরের দিন ভোরের খবরের আশা করে রাত্রিবাস করতে হলোমনের ভিতর ভয় জাগছিল দেশের বুকে একী দূর্যোগ শুরু হলো! এই ভয়ানক দূর্যোগের শেষ পরিণতি কী? এর শেষ কোথায়…………

দেশে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সৃষ্ট ঘটনাগুলো গতকালের ঘটনাকে গোগ্রাসে গিলে ফেলছেবেড়ে যাচ্ছে তীব্র-হিংস্র সহিংসতাযার দরুণ দেশ ক্রমাগত ধ্বংসের খাদে দিকে পড়তে যাচ্ছেএই চরম উত্তেজনার জন্য দায়ী আজকের সহিংস রাজনীতিকেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজী নয়সংলাপ নামে শুধু শুধু প্রেসব্রিফিং, সংবাদ সম্মেলনগত ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে এ পর্যন্ত সাড়ে ছয় শতাধিক নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছেতার মধ্যে গত ৫ মের ঢাকা জুড়ে হেফাজতে ইসলামের মহাসম্মেলন ঘিরে যা ঘটে গেল, তা বলা অপেক্ষা রাখে না দেশ এখন দু:সময়ের মুখোমুখিতে অবস্থান করছেসৃষ্ট এই মহা সংকটে ভেঙ্গে পড়ছে দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো, জানমালের বিপর্যস্ততায় তীব্র বিভীষিকাময় অন্ধকারে নিমজ্জমান

জনসাধারনের জানমালের নিরাপত্তার বদৌলতে নৈরাজ্যের মৃত্যুর ফাটল সৃষ্টি করা, হত্যা উল্লাস নিয়ে ঢোল পেটাচ্ছে আজকের নষ্ট রাজনীতির বাদ্যযন্ত্র বাদকরাআর যে দেশে লাশের রাজনীতি চলে সে দেশে জীবনের মূল্য কতটুকু থাকতে পারে সেটা প্রকাশ করার মতো নয়সাভারের রানা প্লাজায় ধসে নিহত লাশ গুমের অভিযোগ উঠেছিল সেটা পত্রিকায় ও টিভি চ্যানেলে জানা গেছে৬ মে দেশের বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে সারাদেশের হেফাজতের তান্ডব! টিভির দর্শক হিসেবে আমরাও দেখেছিলাম পল্টনের দাবানলের লাইভ প্রচারের ঘটনাস্থলের সরাসরি ভিডিও চিত্রহেফাজতিদের বিশাল সমাগমে ভরপুর ছিল মতিঝিল শাপলা চত্বরঢাকার প্রধান ৬টি স্থানে তারা অবরোধ করে রাখার ঘোষণা ছিল পূর্ব থেকেইতাহলে এই অবরোধে যান চলাচল করলো কীভাবে সেটাও প্রশ্ন ? তাহলে কী এই শ্রেণীরা অবরোধের বিরুদ্ধচারী ছিল? খবরের কাগজে, ফটোসাংবাদিকের ভিউিও ফুটেজে দেখা গেছে-পল্টনের ফুটপাতে বসা ৮২টি বইয়ের দোকানে আগুন দিয়েছে হেফাজতে ইসলামীর কর্মীরাএইসব বইয়ের স্টলে পবিত্র গ্রন্থ কোরআনও ছিল! সেগুলোও পুড়ে গেছেঅনলাইনে ফেসবুকে এ নিয়ে নানা স্ট্যাটাসে লক্ষ্য করা গেছে-হেফাজতিরা কুরআন পুড়ে দিলেন শেষ পর্যন্তকিন্তু প্রশ্ন হলো-যারা ইসলাম বিদ্বেষ তথাকথিত নাস্তিক ব্লগারদের কুরআন  ও সর্বকালের মহামানব মুহম্মদ (স.)কে অবমাননার জন রাজপথে আন্দোলনে নেমেছে, তারা কী করে কুরআন জ্বালিয়ে দিবে ? আমি ফেসবুকে একজনের পোষ্টে কমেন্ট করেছিলাম-নিশ্চিত এর পিছনে তৃতীয় কোন গোষ্ঠীর হাত রয়েছেঅবশ্য তথ্য বেরিয়ে আসবে পরে, আপাদত অপেক্ষা করতে হবে সেই সময়ের জন্যপবিত্র কালাম কুরআন পুড়ানোর জন্য সেইসব চক্রকে অবশ্যই কঠিন শাস্তি পেতে হবেএই হীন কাজটা যে হেফাজতিরা করবে একজন মুসলমান হয়ে বিশ্বাস করতে পারছি নাকেননা কুরআনই যাদের শিক্ষা, আদর্শ; সেই কুরআনকে তারা পুড়িয়ে দিবে এটা বিশ্বাস করা অসম্ভব!

আজকাল অনলাইন সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেসবুক বিশ্ব মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচিত হয়ে উঠেছেমিশরের সেই কায়রোর তাহরীর স্কয়ার আন্দোলনের সূচনা করেছিল এই ফেসবুকএরপর বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ৬ ফেব্রুয়ারি/ যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার বিচারকে কেন্দ্র করে ঢাকা শাহবাগ তাহরির স্কয়ার হিসেবে প্রজন্ম চত্বর বিশ্ব গণমাধ্যমে আলোচিত হয় এই ফেসবুক ঘিরেইপরিচিতি লাভ করে ব্লগার এন্ড ফেসবুক নেটওয়ার্ক অ্যাক্টিভিটিস্ট ফোরাম নামক অন্তর্জাল সংগঠনসেই সূত্রে দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে এই অনলাইন সাইটটির পরিচিতিআর নব পরিচিতি লাভ শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট হয় এক জটলানতুন ভাবে উদ্ভাব ঘটে হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ নামে আরেক ইসলামী দল

শাহবাগে সৃষ্ট প্রজন্ম চত্বরে নারী-পুরুষের অবাধ সঙ্গ, দিন-রাত অবস্থান এবং অনলাইনে কিছু ব্লগার মহানবী (সা.) কে কুটুক্তি করার কারণে শুরু হয় নাস্তিক ব্লগারশব্দ-বাক্য ঝড়এবার শুরু হয় অনলাইন সাইবার যুদ্ধসেদিক থেকে ফেসবুক ও ব্লগ হয়ে উঠে সময়ের সবচেয়ে আলোচ্য বিষয়নাস্তিক ও আস্তিক ঘিরে বিস্তর লেখালেখিযার ফলে ফেসবুক হয়ে উঠে মাল্টিমিডিয়ার খুদে বার্তার সংবাদ পরিবেশকএই অন্তর্জাল জগতে বাস করে কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষনানা মানুষ ভিন্ন ভিন্ন মত ও বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর ফেসবুক ব্যবহারকারী

ফেসবুক শুধু সামাজিক যোগাযোগ সাইট হিসেবে নয়, এখানে রয়েছে সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যম, অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ার নানা খবরের আপডেট পোষ্ট, বিভিন্ন সংগঠন ভিত্তিক গ্রুপ এবং বহু পেজএসব গ্রুপ ও পেজে তারা তাদের মতামত খুদে বার্তা রূপে প্রকাশ করে থাকেদিনের যাত্রা থেকে শুরু করে টুকিটাকি যা কিছু করা হচ্ছে অর্থাৎ জীবন গৃহস্থালির বিষয়াদি তুলে ধরছেন ফেসবুকাররাতার সাথে যুক্ত হয়েছে মাল্টিমিডিয়ার ইলেক্ট্রনিক নিউজ শেয়ার, স্ট্যাটাস ও কঠিনসব জ্ঞান নির্ভর কমেন্ট, প্রবন্ধ/নিবন্ধ, জানা-অজানা বিশাল তথ্যভান্ডার ও প্রতি মুহুর্তে ঘটে যাওয়া খবর সমূহগত ৫ মে রাত ১২ টা পর্যন্ত ও  ৬ মে মধ্যরাতের পর থেকে কি ঘটেছে সেটাও উঠে এসেছে ফেসবুকের পেজেভোরে বন্ধ করে দেওয়া হলো  ইসলামি টিভি ও দিগন্ত টিভি দুটো চ্যানেলকেন বন্ধ করা হলো- উত্তর আসে বিআরটিসির উপরের নিদের্শসূত্রেএই বন্ধ হওয়ার পিছনে রহস্য কী মধ্যরাত?

অনেকেই হয়তো আতঁকে উঠলেন কেন মধ্যরাত শব্দটি এমন আচমকা তুললাম! টিভিতে যখন তেমন কোন খবর পাচ্ছিলাম না; তখন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ফেসবুককেই ভরসা করতে হলো আমাকে, রাতে কোন ঘটনা ঘটেছিল কীনা? ফেসবুকে লগিন করেই আঁতকে উঠলাম-বিশেষ কিছু পেজ দেখেঅনেকের স্ট্যাটাসে জানতে পারলাম মধ্যরাতে মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে হেফাজত ইসলামকে হটিয়ে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকীভাবে তাড়ানো হলো প্রশ্ন জাগলে এক ফেসবুক থেকে জানা গেল প্রচুর গোলাগুলি হয়েছেঅভিযোগ উঠেছে এই গোলাগুলিতে নিহতের লাশ গুম করা হয়েছে! অনলাইন নিউজ ঢাকা টাইম হেফাজত হটাও অভিযান হল যেভাবেশিরোনামের এক প্রতিবেদনে জানা যায়-মধ্যরাতে আইনশৃংখলা বাহিনীর সাড়াশি অভিযানে পন্ডু করে দেওয়া হয় হেফাজতের কর্মসূচিএই সাড়াশি অভিযানে ব্যবহার করা হয় শতশত টিয়ার সেল, রাবার বুলেট ও গুলি এবং সাজোয়া যানসহ সব ভারি অস্ত্রসমস্ত্রএই অভিযানে অংশ নেয় কয়েক হাজার পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি জোয়ান

অভিযানের ভোর পাঁচটার দিকে মতিঝিল চত্বরে দেখা গেছে, বিভিন্ন জায়গায় রক্তের দাগ লেগে আছে, চারদিকে এলোমেলো পড়ে আছে জায়নামায, ছেঁড়া জুতা, পাউরুটির প্যাকেট আর ব্যাগসহ নানান ধরণের জিনিস পত্রসেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে রাবার বুলেটের খোসা, টিয়ারসেল ও রাবার বুলেটশতশত আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকাটিতে অবস্থান করছেনফেসবুকে আরেকজনের স্ট্যাটাসে দেখলাম-৭১এর ২৫ মার্চের মতোই বর্বরতার ঘটনা ঘটেছে এই শাপলা চত্বরেকী ভয়ানক খবর! তাহলে শাপলা চত্বরে তো হাজার হাজার হেফাজত কর্মীর অবস্থান ছিলতারাও এই নারকীয় ফায়ারিং থেকে বাঁচলো কীভাবে? নাকি কত সংখ্যক এই হত্যার শিকার হয়েছেন? প্রশ্ন জেগে উঠে- কী বিকৃত ঘটনার জন্ম দিল  সরকারএই জন্যই কি টিভির মুখ বন্ধ করতে দিগন্ত ও ইসলামি টিভি চ্যানেল দুটি বন্ধ করে দিল?

অনলাইন ঢাকা টাইম থেকে আরও জানা যায়-হেফাজতের এক কর্মী আব্দুল মালেক জানান, রাত সোয়া দুইটার দিকে যাত্রাবাড়ির দিকে রাস্তা খোলা রেখে সমাবেশের চারপাশ দিয়ে আক্রমণ করে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরাতারা সমাবেশের মূল মঞ্চসহ সমাবেশের সকল জায়গায় এক সাথে গুলি, টিয়ারসেল ও বোমা নিক্ষেপ করতে থাকেএ সময় হেফাজতের অনেক কর্মী ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেনতারা কি করবে বুঝে উঠতে না পেরে দিকবিদিক ছোটাছুটি করতে থাকেঅনেককে গুলি খেয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছেঅনেকে আশেপাশে গলি দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেকিছুক্ষণের মধ্যেই সমাবেশ স্থল ফাঁকা হয়ে যায়ফকিরাপুলের বসবাস করা আব্দুল্লাহ বলেন, রাতে হঠাৎ গুলির বিকট শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায়মনে হচ্ছে যেন কোন যুদ্ধের ময়দানে আছি

মাঝে মাঝে বোমার বিকট শব্দ ভেসে আসেলোকজনের চিৎকারে যেন এলাকাটি ভারি হয়ে উঠেছেলোকজন বিভিন্ন বাসায় এসে আশ্রয় প্রার্থনা করেনতবে ভয়ে অধিকাংশ বাসার লোকজন দরজা খুলেনিতবে বিভিন্ন ফাঁকা জায়গায় ও সিঁড়িতে আশ্রয় নেয় হেফাজত কর্মীরাঢাকা টাইমের এই খবর ধরতে গেলে মতিঝিলে হেফাজতকর্মীদের ওপর যেন ২৫ মার্চের বর্বরতার মত তান্ডব হতে পারে এই আশংকা মোটেই কাটানো সম্ভব নয়; তবে ৮ মে দৈনিক সমকালে মৃতের সংখ্যা নিয়ে অপপ্রচারপ্রতিবেদন দেখে একটু আশ্বস্ত হয়েছিএ প্রতিবেদনে জানা গেল- পল্টনে সংঘর্ষে ও মধ্যরাতে যৌথবাহিনীর অভিযানে ২২ জন নিহত নিশ্চিত হওয়া গেছে

তারপরেও প্রশ্ন থেকে যায়, সমাবেশে আসা বিপুল সংখ্যক হেফাজতকর্মীদের মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে হটানোর উদ্দেশ্যে রাতের অন্ধকারে বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কেন সাজোয়া যান, শত শত রাবার বুলেট, গুলি আর কয়েক হাজার কেন আইনশৃংখলাবাহিনী নিযুক্ত করা হলো? পত্রিকায় ২০ মিনিট রুদ্ধশ্বাস সাঁড়াশি অভিযান এর কথা বলা হলেও, ভোর পর্যন্ত নাকি এই অভিযান অব্যাহত ছিল! এর মধ্যে কোন কারচুপি আছে কীনা, সেটা অবশ্য স্পষ্ট নয়এই তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কোন তথ্যই যেহেতু গোপন থাকে না, তাই এই মধ্যরাতে যৌথবাহিনীর অভিযানে কোন নৃশংস হত্যা কিংবা হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল কীনা? এই গোপন  রহস্য অবশ্যই উঠে আসবেযদি এই অভিযানে কোন নিহতের খবর না পাওয়া যায়, তাহলে যৌথবাহিনীর চালানো অভিযানকে ভূয়সী প্রশংসার সাথে শ্রদ্ধাও জানাবো

রাজনীতির ফর্মূলা যদি ভূল থাকে তবে সেটা বিশাল ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়যে ক্ষতির চিহ্নটা দেখতে হলো হেফাজতে ইসলামের মতিঝিল শাপলা চত্বরের মহা সমাবেশ ঘিরেগত ৬ এপ্রিল শান্তিপূর্ণভাবে তারা সমাবেশ সফল করতে পারলেও ৫ মে তাঁরা ব্যর্থ হলোসবচেয়ে ভুল হয়েছে শাপলা চত্বরের রাত্রেও অবস্থান নেওয়াদুপুর বারটার পর থেকে যে সহিংসতার সূত্রপাত হয়েছিল-যার ফলাফল দেখতে হলো পল্টন এলাকা জুড়ে ভয়াবহ আগুনের লেলিহান শিখাসেই আগুনে পুড়ছিল পল্টনের রাস্তার ধারে বসা বই স্টলগুলোআর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় পাঁচ শতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী৭ মে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছেদৈনিক সমকাল এই পল্টনের দাবানল অগ্নিশিখাকে সুনামিবলে উল্লেখ করেছেঘটনার দ্বিতীয় দিনে পল্টন, মতিঝিলে যে চিত্র দেখা গেছে সেটা যেন সুনামির মতোই মানব সৃষ্ট দূর্বিপাকের মহা দূর্যোগচারদিকে বাতাসে ছড়াচ্ছে পোড়া পোড়া গন্ধ

দুইদিন আগে সাভারে রানা প্লাজা ধসে চাপা লাশের গন্ধ এখনো ছড়াচ্ছে প্রকটভাবেএর সাথে যুক্ত হলো মার্কেট, পুলিশের পিকআপ, মোটরসাইলে, ভারি যানবাহন পোড়ানো গন্ধএই বিভৎষ গন্ধে জীবন যেন হয়ে উঠছে দুষণীয় বর্জ্যস্তুপতাই হয়তো এ যুগের আলোচিত লেখক আনিসুল হক বিরাজমান পরিস্থিতির আলোকে লিখেছেন নিবন্ধ- কোথাও কোন সুসংবাদ নেই (প্র/আ. ৭ মে) কথাটি তিনি ঠিক বলেছেনযেদিকে তাকাই সেদিকেই বিপদের মর্মস্পর্শী ও গন্ধবিপদের ভয়াল গ্রাস আমাদের প্রতিনিয়ত তাড়া করে বেড়াচ্ছেতাই কোন সুসংবাদ নেই দু:সংবাদ ছাড়াতবে বলবো ৫ মে হেফাজত ইসলামের সমাবেশ পালনে ফর্মূলার কিছু ত্রুটি ছিল

ত্রুটিগুলো ছিল এরকম-
১.মতিঝিলের শাপলা চত্বরে রাতে হেফাজতিদের অবস্থান নেওয়া ঠিক হয়নি২. যেহেতু শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ সরকারের সমর্থন থাকলেও হেফাজতে ইসলামের পক্ষে তো সরকারের সমর্থন ছিলো না, কারণ সেটা প্রতিপক্ষরূপে দেখা হয়েছে হেফাজত ইসলামকে সে কথা মাথায় রাখা দরকার ছিল ৩. যেহেতু হেফাজতে ইসলামে অরাজনৈতিক দল, সে অর্থে সরকারকে পালানোর প্রসঙ্গে হুমকি-ধামকি দিয়ে আক্রোশ করে তোলা ঠিক হয়নি, কারণ নির্বাচিত সরকার একদিন সময় থাকতেও যে তারা ক্ষমতা ছাড়বে না, তাছাড়া দেশের বিরোধীদলগুলো তো আন্দোলন কম করছে না; সেটাও দেখার প্রয়োজন ছিল

এই যে তিনটি ভুল, তার মাসুল দিতে হলো প্রচন্ডভাবেএ পর্যন্ত এই সমাবেশ ঘিরে বিজিবি-পুলিশসহ ২৩ জনের ইট-পাটকেল ও গুলিবিদ্ধ লাশআর সরকার রাতে অন্ধকারে বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মধ্যরাতে পত্রিকায় এসেছে ২০ মিনিট সাঁড়াশি অভিযানেমতিঝিলকে হেফাজত মুক্ত করে ফেলল গোলাবারুদ, টিয়ার সেল ও সাজোয়াযান ব্যবহার করেএই সাঁড়াশী অভিযানে কতসংখ্যক আহত-নিহত হয়েছে তা এখনো অজানাকেননা রাতারাতি দুটি টিভি চ্যানেলসহ সব টিভির মুখ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছেতাই বারবার প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে মধ্যরাতের ঘটনাকে অনেকে ৭১এর ২৫মার্চের বর্বরতার কালো রাতের সাথে তুলনা করে মন্তব্য করেছেনএই ধারণাকৃত মন্তব্য যদি সত্যি সত্যি সত্যরূপে প্রকাশ পায়, তাহলে ইতিহাসের কালো অধ্যায়ে রচিত হবে প্রাণঘাতক রাক্ষসী ছিল ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকার

আর যদি মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তাহলে বুঝবো হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নামে এক উগ্রপন্থি ধর্মীয় দল ধর্মের নামে এদেশে অশান্তি সৃষ্টি করেছিলধর্মকে পুঁজি করে রাজধানী ঢাকায় মতিঝিলে শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশ করে যে সরকার কে ১৩ দফা দাবি চাপিয়ে দিয়েছিল, সেটা অমূলক ও স্বার্থপ্রণোদিতধর্মকে লাঞ্চিত করতেই ৫ মে পল্টনে যে ভয়াবহ তান্ডব করে কোটি কোটি টাকা অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটাতে ও পবিত্র কুরআনকে অবমাননা করতেই এই উগ্রপন্থি আন্দোলন তারা করেছিল

রাজনীতির এই দুরারোগ্য মহাব্যাধি থেকে আমাদের মুক্তি কী ? কোথায় পাব এর সুচিকিৎসা? কোথাও কি কোন ভাল খবর নেই ? জাতির জীবনে এই শনির আক্রোশ দূর করার কি কোন পন্থা নেই? নাকি সময়ের ঘড়ির কাটা ধরে অপেক্ষা করতে হবে মৃত্যুর পেয়ালার জন্যকখন আমাকে বলির পাঠা হতে হবে? কখন নষ্ট রাজনীতির ছড়িয়ে দেওয়া বিক্ষিপ্ত দাবানল আগুনের লেলিহান শিখায় ভস্মিভুত হতে হবেকখন ভবন ধসে চাপা খেয়ে মরার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।  এ জাতির জীবনে যেহেতু জীবনের মূল্য নেই; গুম-হত্যার শিকার হলে মানবতার বিচার নেই; হত্যার পর শুরু হয় লাশ নিয়ে রাজনীতিলাশ গুমেরও চেষ্টা চলে, হত্যাকৃত লাশের যেন কত দাম! লাশের দেহের বিভিন্ন পার্টস-এর অর্থ সংগ্রহ করতেই চলে নানা ফন্দিফিকিরলাশটা কিভাবে গুম করে পোষ্টমর্টাম করে কাংখিত পার্টসগুলো রেখে বাকিটুকু কোথায় লুকানো যায়, পুড়িয়ে ভস্ম করে ফেলা যায়

এদেশে যেন লাশেরই দাম বেশি, জীবনের নয়তাই হয়তো কবি জীবননান্দ দাস ঠিকই বুঝেছিলেন-অদ্ভূত আঁধার এসেছে পৃথিবীতেজাতীয় পতাকায় খামচে ধরেছে পুরোনো শকুনশামসুর রহমান ঠিকই বলেছিলেনড.আকবর আলী খান গত ৫ মে বাংলাভিশন টিভিতে ফ্রন্টলাইনটকশোতে আক্ষেপ করে বলে উঠলেন-বাংলাদেশের জন্মের সময় মনে হয়েছিল দেশটি প্রাকৃতিক দূর্বিপাকের দেশএই প্রাকৃতিক দূর্বিপাক ঝড়-ঝাঞা নিয়ে গত ৪০ বছরে আমরা অনেক কিছু এগিয়েছিআজ মনে হচ্ছে প্রাকৃতিক নয়, মনুষ্য সৃষ্ট দূর্যোগের দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পৃথিবীতে সর্বোচ্চ স্থানে আছেআমরা অদ্ভূত এক দেশে বাস করছিদেশের এই ক্রান্তিলগ্নে প্রয়োজন সমস্ত সহিংসতা ছেড়ে হাতে হাত রাখাদেশটাকে যে অর্থে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জন করা হয়েছিল, সেটার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দেশের সব রাজনৈতিকদের এই দূরারোগ্য মানবিক ব্যাধি থেকে বেরিয়ে আসা উচিত

এই পল্টনে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দেখা গেছে-দৈনিক প্রথম আলোর অর্থনীতি ও বাণিজ্য পাতায়ধ্বংসযজ্ঞের স্বাক্ষী হাউস বিল্ডিংপ্রতিবেদনে বিএইচবিএফসি তথ্যমতে- এ সহিংস ঘটনায় সব মিলিয়ে ১৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছেভবনের অবকাঠামো ক্ষতি ১৭ কোটি টাকাদুটি ভস্মিভূত, ১০টি গাড়ী ভাঙচুরে ক্ষতি ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা
পল্টনে ফুটপাতে ৩৮টি বইয়ের দোকান পুড়ে অনীল বিশ্বাসের প্রায় লাখ টাকার বই পুড়ে ছাই হয়, ‘গ্রামীণ কার্পেট হাউজএর ভিতরে ৮০-৯০ লাখ টাকার কার্পেট পুড়ে ছাই, মতিঝিলের সরকারি কর্মচারীদের ৫৩ টি গাড়ী পুড়ানো হয়েছে


পল্টনে মুক্তি ভবনও তান্ডবের শিকার হয়ে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।  এই মুক্তি ভবনে ৫ ও ৬ তলায় ছিল সিপিবির কার্যালয়এই ভবনে বেজমেন্টে থাকা দুটো মাইক্রোবাস, তিনটি ব্যক্তিগত গাড়ি ও ভবনটির ১৪ টি দোকানের সবকটি পুড়ে গেছেপাঁচতলা পর্যন্ত সিঁড়ি পুড়ে গেছেনষ্ট হয়ে গেছে লিফটবিশাল জেনারেটর আগুনে পুড়েছেএই ভবনের স্মৃতি পাথর ঘর’-এর মালিক সিরাজ উল্লাহর দাবি তাঁর অন্তত ১৩ লাখ টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে ওই দিনের হামলায়। (সূত্র: প্র/আ. ৮ মে. পৃষ্ঠা-১৩,১৪ ও শেষ)এই যে অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও প্রাণনাশের ক্ষয়ক্ষতি কী দিয়ে পূরণ হবে? এর থেকে কি পরিত্রাণের কোন রাস্তা নেই? সহিংসতা শুধু ধ্বংসই এনে দিতে পারে, কল্যাণ নয়
সাভার ট্রাজেডি : নারকীয় হত্যার দুয়ারে দেখছি লাশের মিছিল

বুধবার হতে চলছে সাভার জুড়ে শুধু শোকের মাতমকান্নার আহাজারি, গগন বিদারি স্বজন হারানোর আর্তনাতবাতাসে ছড়াচ্ছে ধসে যাওয়া ভবন পিষ্ট হওয়া লাশের র্দূগন্ধজীবিতরা ভিতর থেকে উদ্ধারের জন্য করছে করুণ আকুতিউঠে আসছে উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের ভবন চাপায় পিষ্ট হওয়ার বীভৎষ বর্ণনা

যা শুনলে শরীর ঝাকিয়ে উঠেলোমকুপ জেগে উঠেদুচোখের জল বুক ভেঙ্গে ঝরণার মতো উদগত হয়দৃশ্যমান আয়নায় ফুটে উঠে যদি আমি এই ভয়াবহ অবস্থায় উপনিত হতাম; কী অবস্থা হতো? যে ধসে যাওয়া ভবন মাটির সাথে মিশে গেছেদেওয়াল, ছাদ ধসে চাপা দিয়েছে হাজার হাজার শ্রমিকদেরকী ভয়ংকর অবস্থা! প্রাকৃতিক দূর্যোগ হলে একটা কথা ছিল৬/৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলেও একটা ব্যাপার থাকতো

কিন্তু সেটা হয়নি, এমনি এমনি ধসে পড়লোভয়াল এক মৃত্যুকুপে গ্রাসে পরিণত করলো হাজার হাজার কর্মজীবি শ্রমিকদেরযাদের কায়িক পরিশ্রমের অর্থ দিয়ে এই বিলাস বহুল ঢাকা শহরে বড় বড় ইমারত গড়ে উঠা২ তালা থেকে শুরু করে ৩..৪..৯..২২ তলা সুদৃশ্য দালান কোঠাযেখানে বিলাসবহুল জীবন কাটায় শ্রমিকের রক্তচোষা একশ্রেনীর ক্ষমতাসীন মানুষরা

আর শ্রমিকরা কাজ করে জীর্ণশীর্ণ, দূর্বল সব বিল্ডিংগুলোতেযেখানে জীবন নাশের প্রবল ভয়, যেকোন দূর্ঘটনায় শিকার হওয়ার থাকে উপক্রমজীর্ণ-দূর্বল ইমারত ধসে পড়লে মালিকের তো আর ক্ষতি নেইতার থাকার বিলাসবহুল ভবনটা আর ভাঙছে নাশ্রমিকরা তো মশা কিংবা মাছির সমতুল্যথাপ্পর দিলে মেরে ফেলা যায়, কোন কৈফিয়ত দিতে হয়না

কিছু শ্রমিক মারা গেলে আফছোস কিসের? নতুন শ্রমিক দিয়ে কাজ শুরু হবেকিন্তু এদের তো কোন স্বজন এই শ্রমিক হয়ে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হয়নাএই শ্রেনীর মানুষদেরই আমরা দেবতার মত পুজা করিপা ধরে খেয়ে পড়ার জন্য পা ধরিচাকরির জন্য হাত বাড়াইহায়রে এই পাষন্ড হৃদয়, সিমেন্ট-কংক্রিটের মিশ্রণেই গড়ে উঠা মনটাকার জোরে হাওয়া উড়েন

খানকি-মাঙ্কি নিয়ে নাইট ক্লাবে মদের আস্তানায় পড়ে সময় কাটানদেহ প্রশান্তির জন্য কত আয়োজনফ্যাক্টরির জন্য শ্রমিক প্রয়োজন, লোভের জন্য শ্রমিকের ঘামের প্রয়োজনআর শ্রমিক যখন প্রতিবাদ জানায়, তখন তার জন্য ঘাড় ধাক্কা দেওয়ার জন্য লাঠির প্রয়োজনজীবন তো শুধু মৃত্যুর জন্য না! প্রত্যেকেরই সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন থাকেসেই সুন্দর স্বপ্ন বুননের জন্য গ্রাম ও তার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ছুটে আসে এই ইট-পাথরের গড়া যান্ত্রিক শহরে

জীবনের বড় কোন লক্ষ্য নয়, স্বাভাবিকভাবেই বেঁচে থাকতেই পারলেই হয়মোটা কাপড়, মোটা ভাত আর পরিবারের সামান্য কিছু স্বচছলতার স্বপ্ন নিয়ে চাকরি নেয় এইসব গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানেকিন্তু সেই স্বপ্ন-রঙিন গড়তে চাওয়া যদি মালিকদের নির্মম অবহেলায় তছনছ হয়ে যায় তখন! যে মালিকদের শ্রমিকরা দেবতা মানেসেই দেবতাই যদি হয় রক্তচোষা ভয়ংকর খাদক! হ্যাঁ আজ তাই ঘটেছে

সাভারের রানা প্লাজার পাঁচটি ফ্যাক্টরির মালিক ও ভবন মালিকের চরম অবহেলা ও চোখ রাঙানিতে স্মরণকালের এই ভয়াল ট্রাজেডির শিকারে প্রাণ দিতে হলো শশ শ্রমিকদেরআহতরা কেউ পঙ্গু জীবনে ফিরে পরিবার আর দেশের জন্য বেকারের অভিশাপ হয়ে থাকবেছোট্ট একটা স্বপ্নের কত বিশাল ট্রাজেডি! ধ্বংসস্তুপের মৃত্যুর দুয়ার খোলে এই যান্ত্রিক শহরের জীবন দংশনের প্রভু হত্যাকর্তারা !!

বিপন্ন পরিবেশ: প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট দূর্যোগ

কিছুদিন আগে আমরা এখন ভাসমান অবস্থায় আছিশীর্ষক একটা প্রবন্ধ লেখায় হাত দিয়েছিলামকিন্তু সমাপ্ত করতে পারিনি, চলমান সাভার ট্রাজেডি ও মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজত ইসলামের সমাবেশ ঘিরেওদিকে মনস্থির ছিলচোখ দুটো ওই ঘটনাগুলোর উপর যেন নিবদ্ধ রেখেছিলামদেশের প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে মানবসৃষ্ট মহা দূর্যোগে প্রাণ হত্যার বিধ্বংসী উৎসবতার মধ্যে মহান সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি বিশ্ব প্রাকৃতিক দূর্যোগ তো আছেই

মানুষের সাথে পারা গেলেও মহান সৃষ্টিকর্তা ধরা ছোঁয়ার বাইরেপৃথিবী সৃষ্টির বহুপূর্বে মহান সৃষ্টিকর্তা জ্বীন জাতিকে ধ্বংসের পরে মানুষকে এ গ্রহে পাঠিয়েছেনপৃথিবীতে তার জীবনযাত্রা কেমন হবে, সে বিষয়ে সম্যক জ্ঞান তিনি মানুষকে দিয়েছেনতাই জীবন চলার পথে কী করলে কী হবে, নিয়ম না মানলে কী পরিণতি হতে পারে তা তিনি যুগে যুগে নবী-রাসুল দ্বারা এবং বিভিন্ন কিতাব-গ্রন্থ দ্বারা আগাম জানিয়ে দিয়েছেনপ্রয়োজনে ঐতিহাসিক দলিল তথা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন

এর পরেও যদি মানুষ সেই জীবন বিধান প্রদানকৃত দিকনির্দেশনা গ্রহণ না করে, সে জন্য তার ওপর আযাব বা দূর্যোগ আপতিত হয় দোষ দিবে কার? পবিত্র কুরআনে অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে স্মরণ করে দিতে মহানপাক বলেছেন-তাদের কাছে পৌছেনি কি সেই লোকদের সংবাদ যারা পূর্বে গত হয়েছে? যেমন নূহ, দ ও সামূদের কওম, ইবরাহীমের কওম এবং মাদইয়ান ও বিধ্বস্ত জনপদের অধিবাসী

কত জনপদ আমি ধ্বংস করেছি যার অধিবাসীরা ছিল জালিম, এসব জনপদ এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত পরিণত হয়েছে? এবং কত কূপ পরিত্যক্ত হয়েছে ও কত সূদৃঢ় প্রাসাদও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছেতবে কি তারা দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করেনি? তাহলে তারা এমন হৃদয়ের অধিকারী হত যদ্বারা তারা বুঝতে পারত, অথবা তারা এমন কর্ণের অধিকারী হতো যদ্বারা তারা শুনতে পারত; বস্তুত: চক্ষু তো অন্ধ হয় না, বরং অন্ধ হয় বক্ষস্থিত হৃদয় (সূরা তাওবা-৭০, সূরা হজ্ব-৪৫,৪৬)

পৃথিবী ক্রমশ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে

বাংলাপোষ্ট২৪/ই: ধ্বংস ধ্বংস ওহে সবাই শুনো। ওই দেখ প্রলয়করী ঝড় তেড়ে আসছে। মাটি কাপছে, মাটি…..;  ভূমিকম্পে আমাদের সবাইকে তলিয়ে দিয়ে যাবে। বাঁচো বাঁচো ওহে তোমরা কি কেউ শুনতে পাচ্ছ? পৃথিবী ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। সতর্ক হও। নামায পড়। প্রার্থনার জন্য মসজিদ, মন্দিরে গিয়ে আশ্রয় নাও। পরম সত্তাকে বেশি বেশি স্মরণ কর।
তিনি রাগলে ভূমিকম্প-জলোচ্ছাস, সিডর-সাইক্লোন-নারগিসসহ ভয়ংকর ঝড়গুলো দিয়ে আমাদের মেরে ফেলবেন। পাপাচারে নুয়ে পড়েছে পৃথিবী। যার ফলে পৃথিবী ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। কমে আসছে প্রাণীদের গড় আয়ু। বাঁচবো আর ক’বছর ! সময় ফুরিয়ে আসছে। কেয়ামত ধেয়ে আসছে।
ফেসে উঠছে সমুদ্র। রাগান্বিত প্রকৃতি এমন কিছু আওয়াজ মাঝে মাঝে কর্ণকুহরে বেজে উঠছে কয়েকদিন ধরে। মনের ভিতর ডানা মেলছে কিছু লেখার জন্য। আনাচে-কানাচে মানুষের মুখ থেকে শ্রবনিত হই, মানুষ নাকি ভাল নেই। মানুষ আর মানুষ নেই। মানুষই মানুষের মূল শত্রু। তাতে আতংকিত হই। ভয়ার্ত ভীতি নিয়ে চলাচল করে এখন মানুষ। জীবনের নিরাপত্তা নেই।
চারদিকে দ্বন্ধ-সংঘাত। তীব্র অস্থিরতা। হত্যার নাশকতা। যেখানে-সেখানে পড়ে থাকে লাশ! বিষন্ন পৃথিবীর বিপন্ন প্রকৃতি। ভয়াবহ চিত্র-স্বপ্ন-কল্পনার দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখি এইসব বর্তমান পরিস্থিতির দৃশ্যাপট। পৃথিবী ধ্বংসের তান্ডবলীলা শুরু হয়ে গেছে। সুন্দর এ বাসযোগ্য পৃথিবী ক্রমশ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে সেটাতে কোন সংশয় নেই। বোধয় মানুষের যন্ত্র আবিস্কারের বিস্ফোরনে এ ধ্বংস নেমে আসছে।
বেশ কিছু দিন আগ থেকে স্বীয় চর্ম চক্ষুতে ধরা পড়ছে বিশ্বের বুকে নানা অরাজকতা। নাশকতা। যুদ্ধে বিধ্বস্ত বিভিন্ন বিশ্বের নগর-শহর, রাষ্ট্র। হতাহত মানুষ। লাশে লাশ স্তুপ। বিষন্ন প্রকৃতির বিষাক্ত বাতাস। গত বছর থেকে নিয়মিত প্রচার হয়ে আসছে ডিসকভারি চ্যানেলের নাসার প্রামাণ্য চিত্র ২১ ডিসেম্বর ২০১২ কি হতে যাচ্ছে। এদিনেই নেমে আসবে পৃথিবীর উপর বিশাল দূর্যোগ-জলোচ্ছাস।
ধ্বংসে পরিণত হবে এই বিশ্ব। মুসলমান হয়ে এটা বিশ্বাস করতে পারিনা। কেননা পৃথিবী ধ্বংস হবে মহাপ্রলয় বা প্লাবন দিয়ে। পবিত্র কোরআনে আছে “যখন কেয়ামত সংঘটিত হবে। যার সংঘটিত হওয়াতে মিথ্যার কোন অবকাশ নেই। যা কতককে করবে নিচু, কতককে করবে সমুন্নত। যখন জমি ভীষণভাবে প্রকম্পিত হবে। আর পাহাড়-পর্বত ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে। ফলে তা বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পর্যবসিত হবে।” (আল-কোরআন-সূরা ওয়াকি’আ-১-৬);
কোন সভ্যতাকে ধ্বংস করে ফেলা সেটা ওই সভ্যতার জন্য আরবি ভাষায় কেয়ামত। পৃথিবীও ধ্বংস হবে কেয়ামত দিয়েই। বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপর নাযিলকৃত পবিত্র আল-কোরআন সহ তাফসীর গুলোতে। পবিত্র ইসলাম ধর্ম বর্ণনা করে পৃথিবী ধ্বংস হবে কিয়ামত দিয়েই। কোন ধর্মই মিথ্যা বলেনা। নীতি-নৈতিকতা জাতিকে শিক্ষা দেয়।
তবে পবিত্র ইসলাম ধর্মের মত শ্রেষ্ঠ ধর্মের আর কোন শ্রেষ্ঠ ধর্ম এই ধরাধমে নেই। এ ধর্মে কোন প্রকার ভ্রান্তি নেই। বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যার ধর্ম পবিত্র ধর্ম ইসলাম। মহান আল্লাহ্ তাআলা বিশ্বের সকল জাতিকেই উদ্দেশ্য করে বলেছেন, একমাত্র ইসলামই আমার মনোনীত ধর্ম। তাই মহান সত্তার যেকোন বাণীই তার সৃষ্টজাতি,ভূমন্ডল,বায়ুমন্ডল তথা সমস্ত সৃষ্টজগত এর জন্য চির সত্য। আর পবিত্র কুরআন যা বলে তাতে কোন সংশয় নেই। ‘এই সেই কিতাব যাতে কোন সন্দেহ নেই।’ (সূরা আল-বাকারা-২)
পৃথিবী যে ধ্বংসের অতি সন্নিকটে তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু কখন,কবে,কোন সময়ে পৃথিবী ধ্বংস হবে? এই প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর ভ্রান্ত জ্যোতিবিজ্ঞানী কিংবা গাজাখোর গণকের মত দিন-তারিখ-সময় বলার সাধ্য আমার নেই। কেননা মহান আল্লাহ তাআলার অসংখ্য সৃষ্টি জাতির মধ্যে আমিও একটির। তাই প্রাণীর ক্ষমতা নেই নীলনদে অভিশপ্ত ফেরাউনের মত নিজেকে খোদায়ী দাবি রেখে এমনটি বলতে।
যে ফেরাউন নিজেকে খোদা ভেবে তার জাতিকে অংগীকার দিয়েছিল প্রচন্ড খরার পানি তৃষ্ণায় আগামীকাল নির্দিষ্ট সময়ের বৃষ্টিপাত ঘটানোর? এমন গণক আমি নই। তবে কুরআন-হাদিসের আলোকে বলতে পারি পৃথিবী তখনই ধ্বংস হবে যখন পৃথিবীতে মানুষ ভুলে যাবে সব ধর্ম। বিশ্বাস উঠে যাবে। মানুষ ভুলে যাবে সব নৈতিকতা। উঠে যাবে ঐশী বাণী। মুছে যাবে কুরআনের অক্ষর।
সেদিনটি হবে শুক্রবার। সেদিনটি হবে খুবই ভয়াবহ। তবে কুরআন-হাদিসের আলোকে মানুষও এখন ধর্মের প্রতি আনুগত্যশীল। মসজিদে এখনও মুসল্লীর উপচে পড়ার ভীড়। ঈমান-আমল নিয়ে মানুষ এখনও পরহেজগার। তবে বর্তমান সভ্যতা ক্রমশ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যা এটাই শেষ সভ্যতা। এর আগে বহু সভ্যতা পবিত্র কুরআন ও ইতিহাস পড়ে জেনেছি ধ্বংস হয়েছে।
মহা প্লাবনে নুহ (আ) এর জাতি, সালেহর আদ-সামুদ জাতিসহ বহু জাতি সভ্যতা। আজকে এই বিশ্ব সভ্যতায় কোন সতর্ককারীরুপে অর্থাৎ যেহেতু কোন নবী-রাসুল পৃথিবীতে নতুন করে আসবেন না। কেননা খাতামুন নাবিয়্যীন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) দিয়েই পৃথিবীর শেষ নবী বলে অবহিত করা হয়েছে।
পৃথিবী শুরু হয়েছে আদি মানব ও প্রথম নবী হযরত আদম (আঃ) কে দিয়ে। আর শেষ হয়েছে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে দিয়েই। তার মধ্যে মুহাম্মদ (সাঃ)ও ওফাত হয়েছেন আজ প্রায় ১৫ বৎসর হয়ে যাচ্ছে। তাই নিশ্চিত হয়েই বলা যায় পৃথিবী এখন ধ্বংসের মুখোমুখিতে অবস্থান করছে। হাদিস-কুরআনের বর্ণানুসারে- ‘নিশ্চয় এ পার্থিব ক্ষনস্থায়ী। ধ্বংস অনিবার্য।’
অন্যান্য রেওয়াতে-পৃথিবী ধ্বংস হবে তখনি,যখন মানুষের ওপর মানুষের বিশ্বাস বিশেষণটা উঠে যাবে। নষ্ট-নোংড়া ও পাপের পথে পা বাড়াবে মানুষ। অত্যাধিক হত্যাকান্ড সংঘটিত হবে। জাতিতে জাতিতে তুমুল দ্বন্ধ-বিদ্রোহের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠবে অপর জাতি। ভাই ভাইকে,পুত্র-পিতা-মাতাকে খুন করবে,ভাই বোনের সাথে যেনা করবে, ছেলে মায়ের যেনা করবে নির্লজ্জভাবেই (নাউয়ুজুবিল্লাহ);
পুরুষ তান্ত্রিক ক্ষমতা চলে যাবে নারীতান্ত্রিকের হাতে। তসলিমা নাসরিনের মত নারীরা পুরুষের সমান অধিকার আদায় করতে রাজপথ কাপিয়ে তুলবে। নারীরা পুরুষ সাজবে। চুল খাটো করবে পুরুষদের মত। স্যুট-টাই, জিন্স পোশাকে নারীকে আর নারী বলে চেনা দায় হয়ে দাঁড়াবে। নারীর নগ্নাচারিতা শরীর উত্তাপ ছড়াবে। বেড়ে যাবে ধর্ষণ, অপহরণ, ইভটিজিংসহ নানা অপকর্ম।
পুরুষরা দাসে পরিণত হবে। নারীর নেতৃত্ব পুরুষরা বিবেকহীনতায় বাহবা দিবে। মুখ বুজে সয়ে নিবে গৃহ গিন্নির তথা হোম মিনিস্টার অযাচিত সব অত্যাচার। স্কুল-কলেজ-ভার্সিটিগুলোতে ভরে যাবে নষ্ট কালচার। শিক্ষার্থীরা ভুলে যাবে আদর্শ শিক্ষার নৈতিকতার মৌলিকতা।
অবৈধ যৌন বিচরনে মোহিত হবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যান্টিন,হল,নির্জন কক্ষ, পার্ক, আবাসিক হোটেলগুলোতে। নারীরাই পুরুষদের নিজ ইচ্ছানুযায়ী বিয়ে করতে শুরু করবে। যৌন সম্ভোগে নারীর ইচ্ছাই বেশী প্রাধান্য পাবে। ফলত লজ্জা জিনিসটা উঠে যাবে। টিভির পর্দার মডেল শোতে নারীরা অংশ নিবে অর্ধনগ্ন পোশাকে। পত্রিকার কভার প্রচ্ছদে স্থান পাবে নারীর নগ্ন শরীরে উত্তাপ পোজ।
বাজারে নষ্ট বইয়ের ছড়াছড়িতে ভরপুর হবে। বের হবে ‘কামিনীর নির্জন রাত,সেলিনার প্রথম যৌবন বসন্ত,জংলী রাণী এসব নামের হাজারো নোংড়া সেক্সুয়্যাল বই। এই লিটল ম্যাগ সেক্সুয়্যাল বইগুলোর প্রচ্ছদে কিংবা দ্বিতীয় পৃষ্ঠা লেখা থাকবে ‘অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য পাঠযোগ্য নয়।’
বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতার অংশ নিবে নারীরা। সিনেমা-চলচ্চিত্রে নারীকে বে-আব্রুতায় নষ্টামীয়তা অসুষ্ঠু হয়ে পড়বে জাতি সমাজ। এই শুরু হবে নগ্ন শরীরের শ্বেতাঙ্গ নারী দেহ প্রদর্শন। কয়েক ডলার ব্যয় করলেই সুইমিং,ক্যান্টিনগুলোতে ভোগ করা যাবে এমন অফারের আহবান করবে একশ্রেণীর পশ্চিমা নষ্ট খ্রিষ্টান-ইহুদি নষ্ট ব্যবসায়ীরা।

সাভার ট্রাজেডি : এত কান্নার জল রাখি কোথায়?

114 বার পঠিত
‘স্যার জীবিত না হোক, অন্তত লাশটা ফেরত দিন’ গত ৩০ এপ্রিল দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার প্রকাশিত হয়েছে এক নিরাপত্তাকর্মীর পা ধরে কান্নার জলে বুক ভাসানোর এক স্বজনের আহাজারি কান্নার ছবি! চোখে কত জল; এই ক’দিনের হাজার হাজার স্বজনের চোখে ঝরেছে যেন সাগরসম লবনাক্ত জল। বেদনার জল, আহাজারি বুকচাপরানো স্বজন হারানোর জল। ঠিক করেছিলাম আর কোন কলাম লিখবো না এই সাভার ট্রাজেডি নিয়ে। লিখতে বসলেই চোখে জলে চলে আসে। কলম-খাতার মিলনে মিশ্রিত হয় বেদনার ধূসর জল।
২৯ এপ্রিল ফেসবুকে এক ফেসবুকার স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন- আর লিখব না সাভার নিয়ে। কান্নায় ভেঙ্গে পড়ি বারবার। ওই দুমরানো-মুচরানো বিধ্বস্ত ভবনের ভাঁজকরা কাগজের মত দৃশ্যটা দেখলে সহ্য করতে পারি না। রাতে ঘুমাতে পারিনা। চোখে ভেসে উঠে বিধ্বস্ত ভবনের উদ্ধারকরা সারি সারি লাশের ছবি। উদ্ধার করা আহতদের রক্তমাখা শরীরের ছবি। ভবন ধসার বিধ্বস্ত জীবনের ছবি’। তার এই স্ট্যাটাসে লাইক দিয়ে মন্তব্য করেছিলাম-‘আপনি লিখতে না চাইলেও চোখে ভেসে উঠবে সেই বিধ্বস্ত ভবনের চাপায় পড়া নিহতদের রক্তমাখা ছবি। আহতের নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সগুলো ছুটছে হাসপাতালের দিকে। হাজার হাজার স্বজন তাদের হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সেই পিষ্ট হওয়া দুর্ভাগ্যদের ছবি নিয়ে। এই স্মৃতির মন্থর দৃশ্য মুছতে পারবেন!’।
এই বেদনা গাঁথা শোক ভুলার নয়। যদিও সময়ের পরিক্রমায় আমরা ভুলে যাই। যেমনটি প্রায় ভুলে গিয়েছিলাম গত বছরের তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিদগ্ধে নিহত হয়েছিল ১১১জন পোশাককমী। সেই পুড়ে যাওয়া মাংসপিন্ডের গন্ধ না সরতেই ধসে যাওয়া ভবনের পিষ্ট হওয়া ৫২৪ জন লাশের কর্পুর-সোঁদা গন্ধ নিতে হলো অপ্রত্যাশিত ভাবেই। তাজরীন ফ্যাশনের অগ্নিদগ্ধদের তথ্যচিত্রগুলো কিন্তু মুছে যায়নি। আর মুছে যাবেও না। এইসব মর্মস্পর্ষী ভয়াল ট্রাজেডির ঘটনা যুগযুগ ধরে সংবাদপত্রে, ইতিহাসের পাতায় কালো অক্ষরে আর্কাইভ হয়ে থাকবে। আগামী বছরে এই দিন আসলে টিভি মিডিয়ায় স্মৃতি শোলক প্রামাণ্য চিত্র তুলে ধরে জানিয়ে যাবে ২৬ এপ্রিল সাভারের ভয়াবহ ট্রাজেডি ভবন ধসে নিহত হয়েছিল পাঁচ শতাধিকেরও বেশি শ্রমিক। আহত প্রায় তিন হাজার। ধ্বংসস্তুপের চেহেরাটা সাংবাদিকের ভিডিও করা দৃশ্যটা দেখা যাবে দিবস পালনের মধ্য দিয়ে।